Post Image

সোনার কাঁকড়া আর লোভী জেলে


অনেক দিন আগের কথা। নদীর ধারে এক ছোট্ট গ্রামে থাকত এক গরিব জেলে—নাম তার হরিদাস। সারাদিন জাল ফেলেও সে তেমন মাছ পেত না। কষ্টে তার সংসার চলত।

একদিন ভোরবেলা নদীতে জাল ফেলতেই হঠাৎ জাল ভারী হয়ে গেল। হরিদাস টেনে তোলে—দেখে অবাক! জালের ভেতর এক সোনালি রঙের কাঁকড়া ঝিকমিক করছে।

কাঁকড়াটি হঠাৎ মানুষের মতো কথা বলল,

— “জেলে ভাই, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন এক গুপ্তধনের খবর দেব, যাতে তোমার সাত পুরুষ খেতে পারে।”

হরিদাস ভয় পেলেও লোভ সামলাতে পারল না। সে কাঁকড়াকে ছেড়ে দিল।

কাঁকড়া বলল,

— “নদীর পাড়ের বড় বটগাছটার নিচে খুঁড়লেই ধন পাবে। কিন্তু মনে রেখো—একাই খুঁড়বে, কাউকে বলবে না।”

হরিদাস বাড়ি ফিরে খবরটা স্ত্রীকে বলল। স্ত্রীও লোভে পড়ে গেল। দু’জনে মিলে রাতে গিয়ে খুঁড়তে লাগল।

হঠাৎ মাটি কাঁপতে শুরু করল। বটগাছের ফাঁক দিয়ে সেই সোনার কাঁকড়া বেরিয়ে এসে বলল,

— “লোভী মানুষ! আমি বলেছিলাম একাই আসতে।”

এই বলে মুহূর্তে সব অন্ধকার। সকালে গ্রামের লোক দেখে—বটগাছের নিচে একটা বড় গর্ত, কিন্তু হরিদাস আর তার স্ত্রী নেই!

লোকেরা বলে, তারা লোভের শাস্তি পেয়েছে। আর সেই সোনার কাঁকড়া আজও নাকি নদীর জলে ঝিকমিক করে।


শিক্ষা: লোভ মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনে।

Chapters

BuzzAiQ.com